1. admin@danikagonikontho.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নাজিরপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে করা নারী নির্যাতন মামলা প্রত্যাহার না করায় স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম চট্টগ্রাম ইপিজেড থানা পুলিশের অভিযানে ২০৪ পিস ইয়াবা সহ ১ মাদক কারবারি গ্রেফতার পাকুন্দিয়ার সার্ভেয়ার মালেক হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি গ্রেফতার ১ বছর পর কারামুক্ত হলেন নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পাকুন্দিয়ায় “মায়ের আঁচল” আদর্শ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চ ভাংচুরের অভিযোগ পাকুন্দিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত মোংলায় যুগান্তর পত্রিকার ২৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কিশোরগঞ্জের কবি আফসার আশরাফী নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার পেলেন পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ৫ জুয়ারি গ্রেফতার একদফা দাবীতে সরাইল উপজেলা বিএনপির লিফলেট বিতরণ

কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের “নীলপূজা”

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৭৬ বার পঠিত

পঙ্কজ মিত্র:মঠবা‌ড়িয়া(‌পি‌রোজপুর) প্র‌তি‌নি‌ধিঃ-
উপকূলীয় জনপদ পি‌রোজপুর জেলার মঠবা‌ড়িয়া উপজেলায় চৈত্র মাসের শেষের দিকে প্রত্যন্ত গ্রামবাংলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ির উঠোন কিংবা হাটবাজারে দেখা মেলে নীল নাচের দলের পরিবেশনা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এ দলগুলো বেশ সংকুচিত হয়ে এসেছে। নীল নাচ ও পূজার ঠিক আগের মতো যত্রতত্র দেখা মিলছে না।জানা যায়, হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক ধর্মমতে দেবতা শিব সমুদ্র মন্থনে বিষপান করে নীল কণ্ঠ ধারণ করেছিলেন। আবার বৈদিক হিন্দু ধর্মমতে, সূর্য অস্ত গেলে চারিধার গাঢ় অন্ধকার হয়ে আসে। গাঢ় অন্ধকার নীল বর্ণের হয়। এখানে বছরের আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার প্রতীকী হলো এই নীল। চৈত্রসংক্রান্তির দিনে নীল পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সনাতনীদের শাস্ত্রীয় মতে, পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরে সংকট কেটে সুখ ও সমৃদ্ধির আশায় শিবের আরাধনা বা শিবের গাজন অনুষ্ঠিত হয়। চৈত্র শেষে শিবের গাজন উৎসবই হলো নীলপূজা।
প্রাচীন কাল থেকে মঠবা‌ড়িয়া উপজেলায় চৈত্র মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে এবং চৈত্র সংক্রান্তির দিন পূজার মধ্যে সমাপ্তি ঘটতো এই নীল পূজার। এ সময়টাতে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ‘নীল নাচ’ দেখা মিলতো। প্রতিটি নীল নাচের দলে ১০/১২ জনের রাধা, কৃষ্ণ, শিব, পার্বতী, নারদসহ সাধু পাগল (ভাংরা) সেজে সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি নীল নাচ গান পরিবেশন করেন। গ্রাম বাংলার সকল মানুষের কাছে দারুণ উপভোগ্য এই নীল নাচ। নীল নাচ দেখার জন্য এলাকার সব ধর্ম-পেশার মানুষ জড়ো হতো। বিনোদনের এবং ধর্মীয় হিসেবে মনের যথাযথ চাহিদা মিটতো। চৈত্রসংক্রান্তি মেলার শেষ দিনে নীল পূজা শেষে শেষ হতো এ নীল নাচ। নীলপূজার জন্য নীল নাচের দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল আর নগদ অর্থ সংগ্রহ করে। নীল পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু) ধর্মীয় উৎসব হলেও চৈত্রসংক্রান্তির উৎসব একসময় তা সর্বজনীন এক উৎসবে পরিণত হয়।
মঠবা‌ড়িয়ার বড়মাছুয়া(‌খেজুরবা‌ড়িয়া) মাঠে শত বছর ধরে গ্রামের নীলপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মেলায় নীল নাচ পরিবশেন হয়েছে। নীল নাচ ঠিক আগের মতো যত্রতত্র দেখা মেলে না। কালের পরিক্রমায় বাঙালির এ ঐতিহ্যের সংস্কৃতি বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।
এ নীল নাচের দলের শিল্পী জানান, চৈত্র মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহ ধরে ১২/১৫ সদস্যের নীল দল গ্রামাঞ্চলে নাচ-গান করে মানুষের মনোরঞ্জন করে। নীলপূজা কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে নীল দলের নাচও তেমন আর দেখা মিলছে না। ঐতিহ্যের এ নীল নাচ ও পূজা ক্রমেই বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।
এ বিষয় (পঙ্কজ মিত্র) বলেন,এক সময় এ অঞ্চলে চৈত্রের শেষে নীল নাচ ও পূজা হতো। কালের আবর্তে হারিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টদের এ সংস্কৃতি ধরে রাখতে এগিয়ে আসা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 Dainik Agoni Kontho
Theme Customized By Theme Park BD