এম এ হান্নান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-
কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া উপজেলা সহ সারা দেশেই ইদানীং একটি বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছে, পূর্বে বিষয়টি সামান্য হলেও এখন তা চোখে পড়ার মতোই একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
বিষয়টি হচ্ছে “ডিজে” পিকাপ গাড়ী, ডিজে ইজিবাইক বাহন। যেকোনো বিশেষ দিন আসলেই এদের দেখা যায়, উত্তাল অবস্থায় বেশামাল।
ছোট্ট ট্রাক্টর (পিকাপ ভ্যান) বোঝাই করে সমবয়সী উশৃংখল একদল বখাটেরা হৈ-হুল্লোড় করছে আর হাই ভলিউমে কুরুচিপূর্ণ গান বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ওদেরকে কেনো বখাটে বল্লাম,
তার ব্যাখ্যাটা আপনারাও অবশ্যই বুঝতে পারবেন।
আজ, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন,
সকাল থেকেই আকাশের মোন ভালোছিলো না।
কখনো বৃষ্টি,কখনো দমকা বাতাসে ঝড়ো হাওয়া, বইছে। পুলেরঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে একটা চয়ের দোকানে বসে লক্ষ করলাম হাই ভোল্টেজে, করুচিপূর্ণ গান বাজিয়ে হই হই করতে করেত ঘুরপাক খাচ্ছে, বেশকিছু কথিত ” ডিজে পিকাপ” এবং ডিজে ইজিবাইক বাহন।
ভালো করে লক্ষ করলাম ওদের “ডিজে গাড়ির পাশ দিয়ে যদি কোনো নারী(মেয়ে) যাচ্ছেন,
কেউ বন্ধুর সাথে যাচ্ছেন, কেউ বাবা মায়ের সাথে যাচ্ছেন কিন্তু ওই বখাটে গুলো অশ্রাব্য ভাষায় বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ইভটিজিং করছে।
ওরা এক-একটি যানবাহনে ২০/২৫ করে একসাথে থাকে, তাই অধিকাংশ ভদ্রমানুষেরা ঝামেলায় না জড়িয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
আজ ঈদের দিন আমার সামনেই কয়-একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেখলাম এই বিষয়ে।
উল্লেখযোগ্যঃ- একটি মেয়ে ও একটি ছেলে,
সম্ভাবত তারা স্বামী-স্ত্রী। হয়ত ঈদের শেষ বিকালে একটু ঘুরতে বের হয়েছিলো।
কিন্তু’ ডিজে ট্রাক্টর’ এর পাশ দিয়ে যাবার সময়,
এক সাথে ২০/২৫ জন পিকাপ থেকে ইভটিজিং করতে শুরু করে, তারা এমন ভাষা ব্যাবহার করছে, যাহা আমি লিখতে পারছি না। এতোটাই অশ্রাব্য।
ছেলেটা বাইক থামিয়ে প্রতিবাদ করেন!
পিকাপ ড্রাইভার এর কাছে যেয়ে কি যেনো বলছেন,আর তখনি এক ঝাক টোকাই ক্যাটাগরির ছেলে পিকাপ থেকে ঝাপিয়ে পড়লো সেই বাইক চালকের উপরে,স্থানীয় জনগণ ঘটনাটি বুঝতে পেরে ওই টোকাইদের ধাওয়া দিলে তারা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পুলেরঘাট চৌরাস্তা চত্ত্বর, পাকুন্দিয়া, মঠখলা বাজার, মির্জাপুর, তারকান্দি, জাঙ্গালিয়া,কোদালিয়া চৌরাস্তা, শিমুলিয়া, দরগা বাজার, সুখিয়া বিভিন্ন রোডে থেকে এদেরকে অনবরত দেখা যায়। উপজেলা মানুষ এদের জন্যে অতিষ্ঠ হচ্ছে। খোজ নিয়ে জানতে পারি মুলত এই “ডিজে পিকাপ” ডিজে ইজিবাইক সেটাপ করে যারা এই ধরনের উশৃংখলতা করে বেড়াচ্ছে ।
এরা উপজেলা বিভিন্ন গ্রাম থেকে দলে দলে এরকম “ডিজে পিকাপ” ডি জে ইজিবাইক, সেটাপ করে হইহট্টগোল, ইভটিজিং করে বেড়াচ্ছে শহরের মধ্যে।।
এর মধ্যেই, আরো জানতে পারি পুলেরঘাট উপশহর এই বিষয় নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগীতা চলছে,। কোন গ্রুপ কতো যোরে গান বাজাতে পারে, কোন গ্রুপ কতো বেশি হইহট্টগোল করতে পারে।
মুলত উঠতি বয়সী বখে যাওয়া সস্তা মাদকে আসক্ত এই সব ছেলেরা নিজেদের অজান্তেই একটি অপসংস্কৃতি চর্চা করছে, যেটা দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের মধ্যে।
এখনি যদি, অভদ্রতা, অশ্লীলতা এবং বেয়াড়াপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা না নেওয়া হয়। তবে সুদূর ভবিষ্যতে আমার, আপনার ছেলেমেয়েরাও এসবের দিকে ঝুকে পড়বে। যার ফলে সামাজিক ভাবে বিশৃঙ্খলা দেখাদিবে।
শুধু তাই নয়, যারা এই গাড়ীতে হইচই করে বেড়াচ্ছে তারা নিজেরাও নিরাপদ না। আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করতে যেয়ে, বেপরোয়া গাড়ীর গতি চলন্ত গাড়ীতে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে রতো থাকে।
ঈদের দিন সুশীল সমাজের মানুষজনেরাও একটু শহর-বাজারে ঘুরতে বের হন। কিন্তু এদের যন্ত্রণায় এখন অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন অনতিবিলম্বে এই সকল বেয়াড়াপানায় যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে, তাদের গার্ডিয়ানকে ডেকে হুশিয়ারি দেওয়া হোক।
নয়লে, এদের জন্যে সমাজের সাধারণ সমাজিক মানুষেরা বাইরে বের হতেও লজ্জা পাবে,কারন ওই সকল ডিজে গাড়ির পাশ দিয়ে বাবা-মেয়েও যদি একসাথে যায়, তবুও তাদের ইভটিজিং অশ্রাব্য গালাগালি এর শিকার হতে হচ্ছে।।
Leave a Reply