1. admin@danikagonikontho.com : admin :
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেন-জাহিদ আহসান রাসেল সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে নানা আয়োজন,উৎফুল্ল নেতা-কর্মীরা দেশের উন্নয়নে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী ;-আসাদুজ্জামান নূর-সাবেক সাংস্কৃতিক মন্ত্রী সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী রাজিব নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা কারামুক্ত চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার নিরাপত্তায় সাড়ে সাত হাজার পুলিশ নিয়োজিত থাকবে মণিরামপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্য যুবলীগের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে সহকারীকে মারধরের অভিযোগ কয়রায় নবাগত ইউএনও মমিনুর রহমানের যোগদান

পাকুন্দিয়ায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কামার পল্লি

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২
  • ৭৯ বার পঠিত

এম এ হান্নান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
২ই জুলাই রবিবার কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া উপজেলা আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়কার অতি প্রয়োজনীয় কামার শিল্প। আগামী ১০ জুলাই রবিবার ঈদুল আজহা এখন থেকে সময় কদর বেড়ে যায় এ শিল্পের। তখন শিল্পীরা অতিবাহিত করেন বছরের ব্যস্ততম সময়। এ সময় টুং টাং শব্দে মুখর হয়ে হয়ে উঠে পাকুন্দিয়া কামার পল্লীগুলো।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় পেশাদারি কামার পল্লী পাকুন্দিয়া, মির্জাপুর, মটখোলা বাজার, পুলেরঘাট , কোদালিয়া , আশুতিয়া, জাঙ্গালিয়া সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামার পল্লীগুলোতে ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে দা, বটি, চাকু, ছুরা, কুড়াল, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছে কামাররা। এসব ব্যবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দা, বটি, চাকু, ছুরা, কুড়াল, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করছে কামার শিল্পীরা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ কামার পল্লীগুলো । এ সময় কাজের ফাঁকে শিল্পীরা জানান, মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সম্প্রতি উপজেলার প্রত্যেকটি পশুর হাটের পাশে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমান ছুরি, চাপাতি, দা, বটি, ছেনিসহ কুরবানীর কাজে ব্যবহৃত সকল উপকরণ বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ানের কোদালিয়া কামার শিল্পী সৈয়দুজ্জামান জানান, এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা ও ইস্পাত এবং কর্মকারদের ব্যবহৃত হাতুড়ি, সাঁড়াশিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির দর আগের তুলোনায় বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে দিন দিন উন্নত প্রযুক্তির স্টীলের দা, ছুরি, কুড়ালসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে লোহার ছুরি, চাপাতি, দা, বটি, খন্তা, কুড়াল, কোদাল ও নিড়ানীর কদর এখন আর আগের মত নেই। তাই রুজি-রোজগার কমে যাওয়ায় দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেও পরিবার-পরিজন নিয়ে দু’বেলা পেট পুরে খেতে কষ্ট হচ্ছে। অর্থাভাবে শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সর্বক্ষেত্রেই হচ্ছি ভোগান্তির শিকার। তবুও ৩০ বছর যাবৎ এই পেশা, তাই এটা ধরে রেখেই সংসার চালানোর চেষ্টা করছি।এসময় ভাই বাবুল আমাকে এই কাজে সাহায্য করে। দুজন মিলে কাজ করলে কোরবানির ঈদের সময়টুকুতে সংসার নিয়ে একটু ভাল থাকি।
পুলেরঘাট কামার পল্লী সুবোধ কর্মকার বলেন, বাপ, দাদার কালের এই পেশা আমি শিখেছি লেখাপড়া জানা নেই। সেই জন্য অন্য কোন কাজে যেতে পারিনা। সারা বছরই সংসার অভাবে চলে। তবে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই কাজ করে আসছে আমিও এই কাজেই আছি অন্য কোন কাজ জানা নেই। সেই জন্য সারাবছর তেমন কোন কাজ না থাকলেও কোরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা অনেক গুন বেড়ে যায়।
এব্যাপারে বিভিন্ন হাটের কামার শিল্পীরা বলেন, এই পেশায় আমরা যারা আছি তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমান বাজার মূল্যের যে উর্ধগতি সব জিনিসের দাম বেশি হওয়াতে সে অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজের ন্যায্য মূল্য পাইনা। এই পেশায় থেকে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। কামার শিল্পীরা মনে করেন সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও কোন আর্থিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো এ শিল্প অচিরেই একদিন হারিয়ে যাবে।
তারাকান্দি বাজারের কামার শিল্পীরা জানান, একসময় লোহা আগুনে পুড়িয়ে দা, বটি, কোদাল, খন্তা, সাবল, টেটা, কাচি, চাকু, ছুরা, কুড়াল, চাপাতিসহ কৃষি উপকরনের বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরিতে কামারদের যথেষ্ট চাহিদা ও কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। যার ফলে কামারদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ দিনদিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, হয়তো বা একসময় এই পেশা আর থাকবেনা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে কোরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই। সারা বছরের তুলনায় কোরবানির ঈদের সময় রোজী রোজগার অনেক বেশি হয়।
নারায়ণ আরো বলেন, বাপ, দাদার কালের এই পেশা আমি শিখেছি লেখাপড়া জানা নেই। সেই জন্য অন্য কোন কাজে যেতে পারিনা। সারা বছরই সংসার অভাবে চলে। তবে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই কাজ করে আসছে আমিও এই কাজেই আছি অন্য কোন কাজ জানা নেই। সেই জন্য সারাবছর তেমন কোন কাজ না থাকলেও কোরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা অনেক গুন বেড়ে যায়। তাছারা দুইবছর দরে এ কর্ম ভাল চলছেনা। তাই সারা বছর দু’বেলা পেট পুড়ে খাওয়ার জন্য অধিকাংশ কর্মকার ধীরে ধীরে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 Dainik Agoni Kontho
Theme Customized By Theme Park BD