আকরাম আলী ডাকুয়া; নাজিরপুর (পিরোজপুর) উপজেলা প্রতিনিধি;-
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার রিক এনজিও শাখার মাঠ কর্মী মঞ্জুরুল হক গতকাল ১৪ মে উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ দীর্ঘা গ্রামে কিস্তি আদায় করতে গিয়ে সব সদস্যর কিস্তি উত্তোলন শেষে, আনসার সদস্য ঝন্টু বড়াল এর ঘরে কিস্তির টাকা চাইতে গেলে পিছন থেকে অতকির্ত ভাবে সন্ত্রাসী নির্মল ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় নিজের জীবন রক্ষা করতে এনজিও কর্মী দৌড়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে রাস্তার উপরে আসলে ঐ সন্ত্রাসী পিছন দিক থেকে দৌরে এসে আবারো এলোপাথারি ভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে শুরু করলে স্থানীয় মাষ্টার ঝিন্টু রায় এনজিও কর্মীকে উদ্ধার করতে চেষ্টা করে এবং রাস্তার পাশে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সন্ত্রাসী এক পর্যায়ে দৌড়ে নিজের ঘরে আশ্রয় নেয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন এনজিও কর্মীকে ধ্রæত মোটরসাইকেল যোগে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এনজিও কর্মীর অবস্থা আশংকা জনক দেখে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর জরুরী বিভাগে আহত মঞ্জুরুলকে নিলে কর্তরব্যরত চিকিৎসক ফুসফুসের কাছাকাছি গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। এ ব্যপারে রিক নাজিরপুর শাখা ব্যবস্থাপক সোহেল সরদার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, মাঠকর্মীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওযা হয়েছে। এই ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে এ প্রতিনিধিকে জানান, গত সপ্তাহে ঐ খানের সমিতিতে জনৈক এক সদস্যকে সমিতি থেকে বাদ দেওয়ায় ঐ সদস্য অফিসে এসে হুমকি দিয়ে যায়, কিস্তি আনতে আমাদের গ্রামে গেলে দেখাইয়া দিব এবং আরো বলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ বহিস্কৃত সদস্য কর্তৃক নেশায় আসক্ত সন্ত্রাসী দিয়ে আমার মাঠ কর্মীকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এ ব্যপারে ব্যবস্থাপক নিজে বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। স্থানীয় নিহার রঞ্জন কালা, মাষ্টার ঝিন্টু রায় সহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসী নির্মল ১০ বছর পূর্বে ভারতের বর্ধমান জেলার চুচড়া এলাকায় স্ত্রী সন্ধ্যাকে নিয়ে বসবাস করত এবং ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপ-কর্ম করে হত্যা মামলার মত ঘটনা ঘটিয়ে ভারত থেকে পালিয়ে আসেন। স্ত্রী সন্ধ্যার আসল বাড়ী নড়াইল জেলায়। দেশে এসে রমা রানী নামে এক যুবতীকে বিবাহ করে ঘর-সংসার শুরু করে এবং সেখানে ১টি সন্তান আছে। নেশা আসক্ত সন্ত্রাসী নির্মল ঐ এলাকায় নেশাখোরদের একটি চক্র নিয়ে ঘরের ভিতরে বসে নেশার আসর মিলাতো। স্ত্রী বাধা দিলে তাকে ব্যাপক নির্যাতনের মুখে পরতে হতো এমনকি ঐ সন্ত্রাসী নিজের হাতে তৈরি করা একটি ধারালো দা নিয়ে স্ত্রীকেও হত্যার চেষ্টা করত। এ ব্যপারে এলাকার শান্তি প্রিয় লোকজন ঐ সন্ত্রাসীর ভাই পরিমল ঘরামীর নিকট একাধিক বার অভিযোগ করেও কোন ফল পায়নি কেউ। পরিমল ঘরামীর আশ্রয় থেকেই একের পর এক অপকর্ম করে আসছে নির্মল বলে এলাকার একাধিক সূত্র এ প্রতিনিধিকে জানায়, যার কারণে ঐ ঘটনার পরে এলাকার বিক্ষিপ্ত জনতা ঐ সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এ ব্যপারে নাজিরপুর থানার এস আই মোশারেফ হোসেন ঐ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, সন্ত্রাসীকে এলাকার লোকজনদের সহায়তায় গ্রেফতার করতে স্বক্ষম হয়েছি, বাকী আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে।
Leave a Reply